শ্রীনগরে ২০ বছর ধরে বিদ্যুৎহীন ৪টি পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:১৩ AM, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুলে প্রায় ২০ বছর ধরে বিদ্যুৎহীনভাবে বসবাস করছে ৪টি পরিবার।ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পুর্ব কামারগাঁও গ্রামের মোল্লাবাড়ির বসবাসকারীরা বার বার চেষ্টা করেও প্রতিবেশীদের আপত্তির কারণে পল্লী বিদ্যুৎতের বাতির আলোতে অন্ধাকার ঘরগুলো আলোকিত করতে পারেনি।এসব পরিবারের প্রায় ২৫ জন সদস্য বিদ্যুৎতের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।বাধ্য হয়েই সোলার প্যানেলের সল্প আলোতে যাবতীয় কাজকর্ম করছেন তারা।এমনটাই জানান ভূক্তভোগী পরিবারগুলো।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কামারগাঁও নাগরনন্দি খালের সামান্য দক্ষিণে বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত মোল্লাবাড়ির অবস্থান।এখানে এছাক মোল্লাসহ ৪ টি পরিবারের বসবাস।ওই বাড়ির উত্তরে সর্বোচ্চ ৩০০ ফুটের মধ্যে জামাল, কামাল সরকার, মালেক শেখ, কাজল খান, রতন রায়ের বসতবাড়ির অবস্থান।এখানে প্রতিটি বাড়িতেই বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি কয়েকটি পল্লী বিদ্যুৎতের খুঁটিও দেখতে পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব বাড়িতে থাকা বিদ্যুৎ খুঁটি থেকে মোল্লাবাড়িতে বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ দিতে প্রতিবেশীদের অনিহা প্রকাশের কারণে পল্লী বিদ্যুৎতের সংশ্লিষ্টরা ওই বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারছেন না। ভুক্তভোগী আবুল হোসেন মোল্লা বলেন, বিদুৎতের জন্য একাধিক আবেদন করেছি। সংশ্লিষ্ট লোকজন বিদ্যুৎ খুঁটিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে আসলেও প্রতিবেশীদের বাঁধার কারণে সব ফিরত যায়। বিদ্যুৎতের অভাবে শিশুদের লেখাপড়া, রান্নাবান্না ও গবাদি পশু পাখি পালণে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। ২০ বছর ধরে কয়েকটি পরিবার এখানে বিদ্যুৎতের অভাবে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা নিজেদের খরচে বাড়িতে বিদ্যুৎ এনেছেন। তাদের বাড়ির উপর দিয়ে মোল্লা বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে দিবেন না।আপনাদের বাড়ির লাইনটি কি অন্যদের বাড়ি হয়ে কি আসেনি? এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, সেটা পল্লী বিদ্যুৎতের লোকজন ভাল জানেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আইয়ুব খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটা দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রতিবেশীরা মোল্লা বাড়িতে তাদের এখান থেকে বিদ্যুৎতের সংযোগ দিতে চাইছে না।ভুক্তভোগীদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার লক্ষ্যে প্রতিবেশীদের সাথে আলাপ আলোচনার চেষ্টা করছি।আশা করছি একদিন সমস্যা সমাধান হবে।

উপজেলার বালাশুর পল্লী বিদ্যুৎ জোন ইনচার্জ আবু বকর সিদ্দিক জানান, তারা বিদ্যুৎ পাওয়ার অধিকার রাখে।এবিষয়ে আমার সার্বিক সহযোগীতা থাকবে। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যাপারটি মিটমাট করা হবে।

শ্রীনগর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মদন গোপাল সাহা এ ব্যাপরে জানান, বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত ব্যক্তিগণ অফিসে আসলে বিষয়টি অবগত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :