মুন্সিগঞ্জের(বিক্রমপুর)শ্রীনগর ও ভাগ্যকুলের শীর্ষ কৃতি সন্তানেরা

Submitted by Editor on Wed, 04/19/2017 - 03:18
কৃতি

তাইজুল ইসলাম উজ্জ্বলঃ- বিক্রমপুর বিখ্যাত তার কৃতী সন্তানদের জন্য। শ্রীনগর উপজেলাতেও অসংখ্য কৃতি সন্তান রয়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, আইন, ব্যবসা, রাজনীতি প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিপুল অবদান রেখেছেন এবং এখনো রাখছেন তারা। শত শত কৃতী সন্তানের মধ্য থেকে মাত্র ৫১ জনকে বাছাই করা ও অসম্ভব। সেই ব্যর্থ চেষ্টাই করা হল।আমরা ৫১ জনের একটি তালিকা করেছি।সেটাই  তুলে ধরছি।

০১। স্যার জগদীশচন্দ্র বসু, বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী। বেতার তরঙ্গ ও বৈদ্যুতিক চুম্বক তরঙ্গের উপর মৌলিক আবিস্কার। উদ্ভিদের জীবন ও অনুভূতির আবিস্কারক। কবি ও লেখক। জন্ম ৩০.১১.১৮৫৮ পৈত্রিক বাড়ি রাঢ়ীখাল, মৃত্যু ২৩.০১.১৯৩৭ গিরিডি। পিতা ভগবান চন্দ্র বসু ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। 

০২। এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি, সংসদে সরকারি ও বিরোধি দলের উপনেতা, মন্ত্রী ও লেখক। জন্ম ০১.১১.১৯৩২, পৈত্রিক বাড়ি মজিদপুর দয়হাটা, বীরতারা। পিতা কফিল উদ্দিন চৌধুরী মন্ত্রী ছিলেন। 

০৩। ড. হুমায়ুন আজাদ, ভাষাবিজ্ঞানী, কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, রাজনৈতিক ভাষ্যকার, প্রথাবিরোধি লেখক, প্রকাশিত বই ৭০টির বেশি। বিভাগীয় প্রধান বাংলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। জন্ম ২৮.০৪.১৯৪৭ ভাগ্যকুল ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামে। পৈত্রিক বাড়ি রাঢ়ীখাল। মৃত্যু ১১.০৮.২০০৪ জার্মানি। পিতা আব্দুল রাশেদ আকন্দ, মাতা জোবেদা খাতুন।

০৪। ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। জন্ম ১৯৩৬ বাড়ৈখালি, পিতা হাফিজ উদ্দিন চৌধুরী। 

০৫। স্যার চন্দ্র মাধব ঘোষ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও নাইট উপাধি প্রাপ্ত। জন্ম ২৬.০২.১৮৩৮ ষোলঘর, মৃত্যু ১৯.০১.১৯১৮ কলকাতা। পিতা: রায় দুর্গাপ্রসাদ ঘোষ বাহাদুর ছিলেন ডেপুটি কালেক্টর। মাতার নাম চন্দ্রবালা।

০৬। শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, উপপ্রধান মন্ত্রী, মন্ত্রী, চীফ হুইপ। পিতা আহমেদ আলী। জন্ম ১০.০১.১৯৩৯ দোগাছি, কোলাপাড়া।

০৭। লালা কীর্ত্তিনারায়ন বসু, শ্রীনগরের জমিদার, নবাব মীর কাশিমের শাসনামলে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা প্রদেশের গভর্ণর, ওয়ারিশক্রমে লালা উপাধি প্রাপ্ত। জন্ম ১৭৩৫ শ্রীনগর (রাইসবর), মৃত্যু ১৭৮৫। পিতা কংস নারায়ন।

০৮। রায় বাহাদুর হরেন্দ্রলাল রায়, প্রতিষ্ঠাতা ভাগ্যকুল হরেন্দ্রলাল উচ্চ বিদ্যালয়, হরেন্দ্রলাল পাবলিক লাইব্রেরি-মুন্সীগঞ্জ, ভাগ্যকুল চ্যারিটেবল হাসপাতাল, মুন্সীগঞ্জ কলেজ (বিলুপ্ত), দানবীর, জমিদার, ব্যাংকার, রায়বাহাদুর খেতাবপ্রাপ্ত। জন্ম ৪ ফাল্গুন ১২৬৬ ভাগ্যকুল, মৃত্যু ১৩ আশ্বিন ১৩৪৪ কলকাতা। পিতা হরপ্রসাদ রায়, মাতা মণিক্যময়ী রায় চৌধুরাণী। প্রকৃতপক্ষে হরেন্দ্রলার রায় দত্তক পুত্র এবং মাণিক্যময়ীর কণিষ্ঠ ভ্রাতা।

০৯। রাজা শ্রীনাথ রায়, ভাগ্যকুলের জমিদার, ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জের অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট, দানবীর, প্রতিষ্ঠাতা শ্রীনাথ হাসপাতাল ও মুন্সীগঞ্জ শ্রীনাথ ক্লাব, বৃটিশ সরকার কর্তৃক রাজা উপাধিপ্রাপ্ত। জন্ম ১২৪৮ বঙ্গাব্দ ভাগ্যকুল, মৃত্যু ২১ জৈষ্ঠ ১৩৩১ ভাগ্যকুল। পিতা প্রেমচাঁদ রায়, মাতা সুভদ্রামণি।

১০। সিদ্ধার্থ শংকর রায়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, ওয়াশিংটনে ভারতের রাষ্ট্রদূত, ভারতের পাঞ্চাব প্রদেশের রাজ্যপাল। জন্ম হাসাড়া, পিতা- ব্যারিস্টার সুধীর রায়।

১১। কফিল উদ্দিন চৌধুরী, যুক্তফ্রন্টের বিচার বিভাগীয় মন্ত্রী, প্রাদেশিক কোয়ালিশন সরকারের গণপূর্ত, সেচ ও বন দপ্তরের মন্ত্রী, প্রতিষ্ঠাতা- মজিদপুর দয়হাটা কেসি মেমোরিয়াল ইন্সটিটিউশন। জন্ম ১৮৯৯ মজিদপুর দয়হাটা, বীরতারা, মৃত্যু ১২.০৫.১৯৭২, ঢাকা। পিতার নাম আলতাফ উদ্দিন চৌধুরী।

১২। হরিআনন্দ বাড়রী, সর্বাধ্যক্ষ ইন্টলিজেন্স বুরো অব ইন্ডিয়া, রাজ্যপাল- ভারতের হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশ। জন্ম ০১.০৪.১৯২৯, শ্যামসিদ্ধি পিতা- হরিদাস বাড়রী। তাঁর আলোচিত গ্রন্থ ‘আমার বিক্রমপুর’।

১৩। ব্যারিস্টার কে এস নবী, এটর্নী জেনারেল ও রাজনৈতিক। জন্ম ষোলঘর, পিতা কে ডব্লিউ নবী।

১৪। আবু নাযম হামিদুল্লাহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম গভর্ণর। হাইকমিশনার কেনিয়া ও জাম্বিয়া। জন্ম সমষপুর, কোলাপাড়া। পিতা মুন্সী হাবিব উল্লাহ।

১৫। ফয়েজ আহমেদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সম্পাদক, রাজনৈতিক, সংগঠক, ছড়াকার, প্রধান সম্পাদক-বাসস, প্রকাশিত গ্রন' শতাধীক। জন্ম ০২.০৫.১৯৩২ বাসাইল ভোগ, পিতা গোলাম মোস্তফা চৌধুরী।

১৬। ড. মো: আবু নাসের, উপাচার্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। জন্ম ০২.০৪.১৯২১, দামলা, রাঢ়ীখাল, মৃত্যু ১২.০৫.২০০৪, পিতা মো: ইসমাইল খান।

১৭। মনযুর উল করীম, স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ স্কাউটের প্রধান জাতীয় কমিশনার, সর্বোচ্চ স্কাউট পদক সিলভার টাইগার এবং সর্বোচ্চ বিশ্বখেতাব ব্রোঞ্জ উলফ লাভ করেন। ইমরান নূর ছদ্মনামে তিনি লেখালেখি করেছেন। জন্ম বাড়ৈখালি।

১৮। কামরুদ্দিন আহমদ, বার্মায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, কলকাতায় পাকিস্তানের ডেপুটি হাই কমিশনার, সভাপতি এশিয়াটিক সোসাইটি, রাজনৈতিক। জন্ম ০৮.০৯.১৯১২ ষোলঘর, মৃত্যু ০৬.০২.১৯৮২ ঢাকা।

১৯। মোহাম্মদ মাহে আলম, সংস্থাপন সচিব, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিএস, সভাপতি- সচিব এসোসিয়েশন। জন্ম ১৯৪১ রাঢ়ীখাল, পিতা- খোরশেদ আলম।

২০। কালী কিশোর সেন চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা হাসাড়া কালিকিশোর উচ্চ বিদ্যালয়, ১৮৭৯। জন্ম হাসাড়া, পিতা- পিতাম্বর সেন, মাতা শ্রীযুক্তা ঈশ্বরী।

২১। বিনোদ বিহারী পাল, প্রতিষ্ঠাতা বেলতলী জিজে উচ্চ বিদ্যালয়, জন্ম ১৮৭৬ বেলতলী, আটপাড়া, পিতা- রামচন্দ্র পাল, পিতামহ- গঙ্গাপ্রসাদ পাল।

২২। অক্ষয় কুমার বসু চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা ষোলঘর একেএসকে উচ্চ বিদ্রালয় ১৯২৫, কলকাতায় ১টি বালিকা বিদ্যালয়, প্রধান শিক্ষক। জন্ম ষোলঘর, মৃত্যু ষোলঘর ২৪.০৯.১৯৩৮।

২৩। মোহাম্মদ হোসেন আলী, প্রতিষ্ঠাতা- আলমপুর হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়, বৃটিশ সরকারের কায়সার ই হিন্দ উপাধিপ্রাপ্ত। জন্ম ডিসেম্বর ১৯০৪ আলমপুর হাসাড়া, মৃত্যু ২২.০৬.১৯৭৮, ঢাকা। পিতা- মোহাম্মদ আলফু আলম, মাতা আরজুদা বেগম।

২৪। রাবেয়া খাতুন, ঔপন্যাসিক, রত্নগর্ভা মাতা, একুশে ও বাংলা একাডেমি পদক প্রাপ্ত। পিতা- মৌলবি মোহাম্মদ মুলুক চাঁদ, মাতা- হামিদা খাতুন। জন্ম ২৭.১২.১৯৩৫, ষোলঘর।

২৫। প্রতিভা বসু (রাণু সোম), ঔপন্যাসিক, বিখ্যাত গায়িকা। জন্ম ১৯১৫ হাসাড়া, পিতা- আশুতোষ সোম, স্বামী কবি বুদ্ধদেব বসু।

২৬। আবু সাঈদ হাফিজউল্লাহ, ডেপুটি এজি, ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সরকার তাকে সিতারা-ই-খিদমত খেতাবে ভূষিত করে। জন্ম ০১.০১.১৯১২ সমষপুর, কোলাপাড়া, পিতা- মুন্সী হাবিব উল্লাহ। 

২৭। মধু সূদন দে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের প্রতিষ্ঠাতা। জন্ম বাবুর দিঘিরপাড়, শ্রীনগর, মৃত্যু ২৫.০৩.১৯৭১, ঢাকা।

২৮। শাহেদ আলী, কৃষক নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। জন্ম ০২.০১.১৯০০ শুরদিয়া, শ্রীনগর, পিতা- সিটু বেপারী।

২৯। জ্ঞান চক্রবর্তী, বিপ্লবী, লেখক। জন্ম ১৯০৫ দোগাছি, কোলাপাড়া, মৃত্যু ১১.০৮.১৯৭৭।

৩০। সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, সংসদ সদস্য, ঔষধ ব্যবসায়ী। জন্ম ১৯৫২ শ্রীনগর। পিতা বরদাকান্ত ঘোষ, মাতা আশালতা ঘোষ।

৩১। ফেরদৌস ওয়াহিদ, জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী। তিনি শিল্পী হাবিব ওয়াহিদের পিতা। জন্ম ১৯৫২, দক্ষিণ পাইকসা, কোলাপাড়া।

৩২। মনোরঞ্জন ঘোষ, রাসায়নিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষক। রঞ্জন শিল্প ও ওয়াটার প্রুফ এই দুই বিষয়ে সাফল্য পান। এছাড়া সিনেমা ব্যবসা করে সাফল্য পান। জন্ম ১৬.০১.১৮৯৫, হাসাড়া, পিতা- রেতী মোহন ঘোষ।

৩৩। ড. এ কে এম রফিকুল্লাহ, গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক। জন্ম ০১.০১.১৯৩১, সমষপুর, কোলাপাড়া।

৩৪। ড. আব্দুল মমিন চৌধুরী, উপাচার্য- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক, বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতিরি সাধারণ সম্পাদক, কমনওয়েলথ স্টাফ ফেলো।

৩৫। ড. আনোয়ারুল রহমান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিদ্যা ও ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের অধ্যাপক, যুক্তরাজ্যের রয়েল আইক্রোসকোপিয়াল সোসাইটির ফেলো।

৩৬। নরুল মোমেন খান, চেয়ারম্যান- চালনা পোর্ট ও চট্টগ্রাম পোর্ট। জন্ম ষোলঘর।

৩৭। পদ্মলোচন ঘোষ, প্রতিষ্ঠাতা জয়লক্ষী দাতব্য চিকিৎসালয়, এটি উদ্বোধন করেন বাংলার লাট লর্ড কারমাইকেল, শিশু পাঠ্যপুস্তক লেখক। জন্ম ০৩.০৬.১৮৩৯, হাসাড়া, পিতা- নবকিশোর ঘোষ, মাতা জয় লক্ষী দেবী।

৩৮। শফি বিক্রমপুরী, চলচিত্রের প্রযোজক, পরিচালক, পরিবেশক, প্রতিষ্ঠাতা বেগম ফাতেমা আর্শেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়, রাজনৈতিক। জন্ম ০১.০৪.১৯৪০, সেলামতি, শ্যামসিদ্ধি, পিতা- আরশেদ আলী।

৩৯। চাষী নজরুল ইসলাম, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক, একুশে পদকপ্রাপ্ত, রাজনৈতিক, ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রের নির্মাতা। জন্ম ২৩.১০.১৯৪১, সমষপুর, কোলাপাড়া।

৪০। পঙ্কজ রায়, ভাগ্যকুল জমিদার পরিবারের সন্তান বিখ্যাত ক্রিকেটার। ভারতীয় দলের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে উদ্বোধনী জুটিতে রেকর্ড রান করেছিলেন ভানু মানকড়ের সাথে। 

৪১। ডা. মোহাম্মদ বদিউজ্জামান ভূইয়া, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক, আওয়ামীলীগ, যৌন ও এইডস বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখক। জন্ম ১৬.০৭.১৯৫৫ দামলা, রাঢ়ীখাল, পিতা- আফাজ উদ্দিন আহমেদ।

৪২। ডা. মনিরুজ্জামান ভূইয়া, সংগঠক, রাজনৈতিক, লেখক, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা উপাধ্যক্ষ, বর্তমানে অধ্যক্ষ। জন্ম দামলা, রাঢ়ীখাল, পিতা- আফাজ উদ্দিন আহমেদ।

৪৩। প্রতাপশঙ্কর হাজরা, জাতীয় দলের ফুটবলার ও ক্রিকেটার, জন্ম ১৯৩৬ দোগাছি, কোলাপাড়া। জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন, স্বাধীনবাংলা ফুটবল দলের অন্যতম খেলোয়াড়।

৪৪। শিমুল ইউসুফ, নাট্যশিল্পী ও কণ্ঠশিল্পী। জন্ম ২১.০৩.১৯৫৭, সমষপুর স্বামী- নাট্যকার নাসির উদ্দিন ইউসুফ।

৪৫। ডা. আব্দুল কাদির খান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক, সাহিত্যিক। জন্ম ১১.০১.১৯৪৬ বাসাইল ভোগ, শ্রীনগর, পিতা- মোহাম্মদ আব্দুল জলিল খান।

৪৬। ডা. এ কে এম আমিনুল হক, অধ্যাপক ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ। জন্ম সমষপুর, কোলাপাড়া।

৪৭। ফরিদ হোসেন, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও এপির সাবেক ব্যুরো চীফ, বাড়ি কুকুটিয়া।

৪৮। নুরুল আলম চৌধুরী, সভাপতি শেখ রাসেল ক্রীড়চক্র, বস্ত্র ব্যবসায়ী। জন্ম ১৭.০৩.১৯৫৮, ষোলঘর, পিতা- আব্দুল মোতালেব চৌধুরী, মাতা- নুরুন্নাহার বেগম। জাতীয় ক্রীড়া পুরষ্কারপ্রাপ্ত।

৪৯। শ্রীনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধা। শ্রীনগরে কোন মুক্তিযুদ্ধ না হলেও শ্রীনগরের মুক্তিযোদ্ধারা গোয়ালীমান্দ্রা, গালিমপুর, বেতিয়ারাসহ দেশের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। শ্রীনগরের তখনকার কমাণ্ডার আতিকুল্লাহ খান মাসুদের বাড়ি লৌহজং উপজেলায়। কোন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাও নাই। তাই সামগ্রিকভাবেই সবার নাম রাখলাম।

৫০।আব্দুল কাদের প্রফেসর(সরদার)।জগন্নাথ কলেজের  বাংলা বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ প্রফেসর এসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল কাদের সরদার।যিনি তৎকালীন সময়ে বাংলায় ডাবল এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৩৯ সালে ভারতের আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, এছাড়া তিনি যুক্তফ্রন্টের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি ভাগ্যকুল হরেন্দ্রলাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী ছিলেন।তার পরামর্শে সাবেক রাষ্ট্রপতি বি, চৌধুরি উকালতি নাপড়ে ডাক্তারি পড়েন।জন্ম-ভাগ্যকুল মান্দ্রা গ্রামে।

৫১ তম নামটি লিখতে গিয়ে দেখি বহু কৃতী সন্তান রয়েছে যারা গুরুত্বপূর্ণ। তাই কয়েকজনের নাম উল্লেখ করলাম- মাহ্তাব উদ্দিন আহম্মেদ, এম, এন, এ, ( মেম্বার আব ন্যাশনাল এস্মেবিলি, পাকিস্তান), সভাপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোট বার কাউন্সিল। শ্রীনগর কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠিতা। তাঁর বাড়ি দামলা গ্রামে। ভাগ্যকুলের জমিদার রাজা জানকীনাথ রায়, জমিদার কুমার প্রমথনাথ রায়, জমিদার সতীনাথ রায় ও তার পুত্র ভাগ্যকুলের শেষ জমিদার যদুনাথ রায়। ভাগ্যকুল জমিদার পরিবারের সন্তান বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হলধর রায়। শ্রীগরের বিখ্যাত জমিদার লালা জগবন্ধু বসু ও তার দুই পুত্র লালা রাজেন্দ্র বসু ও লালা ব্রজেন্দ্র বসু, মাইজপাড়ার রায় ও বাঘরার মাঝি পরিবারের জগন্নাথ মাঝিসহ কয়েকজন কৃতী সন্তান রয়েছেন। ঢাকা-৪ আসনের সাবেক এবং সংরক্ষিত আসনের বর্তমান এমপি সানজিদা খানম মালার বাড়ি কবুতরখোলা, সাংস্কৃতিক সচিব আকতারী মমতাজের বাড়ি কামারগাঁও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শ্রীশচন্দ্র চক্রবর্তীর বাড়ি শ্যামসিদ্ধি জন্ম ১৮৬৪, তিনি বহুগ্রনে'র রচয়িতা। মাহী বি চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য, বিকল্পধারার সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুখপাত্র, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। জন্ম ১৩ মার্চ ১৯৭০, মজিদপুর দয়হাটা, বীরতারা, পিতা- ডা. অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী সাবেক রাষ্ট্রপতি। পাকিজা গ্রুপের সত্ত্বাধিকারী রফিকুল ইসলামের বাড়ি রাঢ়ীখাল, সংগঠক ও দন্ত চিকিৎসক ডা. আব্দুল মালেক ভূইয়ার বাড়ি কুকুটিয়া, ড. ইঞ্জিনিয়ার এম এ কাশেম পানিউন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন বাড়ি রাঢ়ীখাল। শওকত আলী ভূইয়া দিলন, চেয়ারম্যান ক্যাপিটাল গ্রুপ, জন্ম ১৯৫৫ মাগডাল, বাঘরা। পিতা- কেরামত আলী ভূইয়া পুলিশের এসপি ছিলেন, পিতামহ ওয়াজেদ আলী ভূইয়া (সোনা মিয়া)। রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের কবুতর খোলা গ্রামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সিরাজ খান কবি ও গীতিকার, একই গ্রামের ড. জামাল খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ও আমেরিকার বারডোম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, এছাড়া তিনি প্রবন্ধকার ও সমালোচক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সমষপুর গ্রামের আব্দুল আলীমের ২৫টি গ্রন' প্রকাশিত হয়েছে। বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও রাজনৈতিক আলমগীর কুমকুমের বাড়ি সমষপুর। এ কে এ ফিরোজ নুন, গীতিকার, লেখক, গবেষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। জন্ম ০৪.০১.১৯৪৫, সমষপুর কোলাপাড়া। ডা. মোহাম্মদ হেদায়েত হোসেন খান বিশিষ্ট হাড় ও জোড়া বিশেষজ্ঞ, বাড়ি ভাগ্যকুল ইউনিয়নের কামারগাঁও, জন্ম ০১.০১.১৯৫৪, পিতা- মোহাম্মদ নাবালক হোসেন খান। মনোচিকিৎসক নাসিমা আক্তারের বাড়ি নাগরভাগ। দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আইনজীবী (সুপ্রিম কোর্ট) মো: শফিকুল ইসলাম ঢালীর বাড়ি গাদিঘাট, মানবাধিকার নেতা এ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান খান শুভ্র ষোলঘরের সন্তান। কবি ও সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হাবিবুল্লার বাড়ি লস্করপুর, সাংবাদিক ও নজরুল গবেষক শেখ নুরুল ইসলামের বাড়ি বেজগাঁও, রাজনৈতিক ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. এম এ হাকিমের বাড়ি কেয়টখালী। বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন কোলাপাড়ার মোমিন আলী (বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান), মাইজপাড়ার মোতালেব মোগল, আটপাড়ার জিএম মোস্তাফিজুর রহমান, পাটাভোগের সিরাজুল ইসলাম, কুকুটিয়ার সাবেক উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ ভূইয়া, হোগলাগাঁও গ্রামের মিজানুর রহমান দুলাল। কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকার রয়েছেন যার মধ্যে- বেজগাঁও গ্রামের জয়নাল আবেদীন কৃষি ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি ও বর্তমানে ইসলামি ব্যাংকের পরিচালক, রাঢ়ীখালের আ আ ম মাহমুদুল হক ছিলেন সোনালী ব্যাংকের জিএম, ভাগ্যকুলের কামারগাঁও গ্রামের নিয়াজ মোহাম্মদ খান ছিলেন ঢাকা ব্যাংকের ডিএমডি, সমষপুরের গীতিকবি ঢালী মোহাম্মদ দেলোয়ার ও নাসির উদ্দিন আহমেদ  , নাগরভাগের পানুরঞ্জন দাস। সাংবাদিক তাসের মাহমুদের বাড়ি শ্রীনগরে, কবি সাগর চক্রবর্তীর বাড়ি ছিল রাঢ়ীখালে, তিনি পরবর্তীতে কলকাতায় চলে যান।

সংগ্রহিত

bigapon