মুন্সিগঞ্জে চিকিৎসক ও সাংবাদিক থেকে টাকা না পেয়ে মামলা দিল পুলিশ

Submitted by Editor on Fri, 05/19/2017 - 14:17
বিসিএস

শাহ্ আলম ইসলাম নিতুল,মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মুন্সিগঞ্জে বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকসহ সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসককে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বিসিএস ক্যাডার হওয়ায় চিকিৎসক রেজাউল ইসলাম রাসেলকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগও রয়েছে। রবিবার রাত ১০টায় মুন্সীগঞ্জ সদরের নতুন গাও এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

রবিবার ও সোমবার বিসিএস ক্যাডার এবং সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক রাসেল এই ব্যাপারে কিছু বলতে চাইনি। মঙ্গলবার বিকালে সে ক্যামেরা সামনে আসতে রাজী হয়ে সাক্ষাতকার দেয়।

বিসিএস ক্যাডার ও সদর হাসপাতালের এনেস্থিসিয়া বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রেজাউল ইসলাম রাসেল জানান, পঞ্চসার ইউনিয়নের সিপাহীপাড়া এলাকা থেকে অপারেশন শেষ করে খাবার নিয়ে বাসায় ফিরছিলাম। পথিমধ্যে পেট্রোলপাম্প এলাকায় সাংবাদিক হাসানের সাথে আমার দেখা হয়। একই রিক্সায় আমরা দুইজন বাসার উদ্দেশ্য যেতে থাকি। যাওয়ার পথে নতুনগাও এলাকায় রিক্সা থামিয়ে অন্ধকার রাস্তায় পুলিশ আমাদের থামায়। আমরা রিক্সা থেকে নেমে আমাদের নিজস্ব পরিচয় দিয়ে আলোতে তল্লাশি করার কথা জানাই।

কিন্তু সিভিল ড্রেস পরিহত ডিবির এস আই মোর্শেদ এবং এ এস আই রহিম আমাদের জোর পূর্বক তল্লাশি চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে আমাদের সাথে কথা কাটাকাটা এবং হাতাহাতির পর্যায়ে যায়। আমাদের থেকে টাকা দাবী করলে আমরা না দিয়ে প্রতিবাদ জানালে আমাদের থানায় নিয়ে যায় এস আই মোর্শেদ এবং এ এস আই রহিম। সকালে জানতে পারি পুলিশ সাংবাদিক হাসানকে ইয়াবা দিয়ে মামলা দিয়ে কোর্টে প্রেরণ করে। রাতে সিভিল সার্জনের  মুচলেকা দিয়ে আমাকে নিয়ে যায়।

সাংবাদিক হাসানের বোন এডভোকেট লাকী আক্তার জানান, আমার ভাইকে মাদক দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। আমার ভাই একাধিক সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত।সে মুন্সীগঞ্জ যুব রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সাবেক যুব প্রধান এবং আমার ভাই কোন মাদকের সাথে কখনই জড়িত থাকার প্রশ্নই আসেনা। পুলিশের বিরুদ্ধে আমার ভাই অনুসন্ধানীমূলক নিউজ করার কারনেই তারা এই রকম করেছে।

ঘটনার দিন আটক বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান জানান, আমি ১৪ মে রবিবার শ্রীনগর উপজেলার চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলায় পুলিশের গাফিলতি এবং সেতু মন্ত্রীর নিউজ কাভার করে বাসায় ফিরছিলাম। পেট্রোল পাম্প এলাকায় রাসেল ভাইয়ের সাথে দেখা হয় এবং একই রিক্সায় আমরা বাসায় যেতে থাকি। নতুনগাও এলাকায় আমাদের রিক্সা থামিয়ে জোর পূর্বক তল্লাশি চালায়। আমরা আলোতে এসে তল্লাশি করতে বললে আমাদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। আমাদের থেকে টাকা দাবী করে, টাকা না দিয়ে প্রতিবাদ জানালে এস আই মোর্শেদ এবং এ এস আই রহিম থানায় নিয়ে যায়। সকালে আমার বিরুদ্ধে মাদক দিয়ে মামলা দিয়েছে পুলিশ।

মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ  জানান, বিসিএস ক্যাডার কি পরিমান মাদক খেয়ে এসব কথা বলেছে জানা নেই আমার। ঘটনাস্থলে থাকা এস আই মোর্শেদ ও এ এস আই রহিমের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছে তা মিথ্যা। চিকিৎসক রাসেলকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কারন তার থেকে মাদক পাওয়া যায়নি। বিসিএস ক্যাডার মাদক খেয়ে সাংবাদিকদের সাক্ষ্য দিয়েছে এই ব্যাপারে আপনি কি কোন ব্যবস্থা নিবেন জানতে চাইলে সে এড়িয়ে যান।

এ এস আই রহিম জানান, আমরা আইনের লোক। চিকিৎসক রাসেল যে অভিযোগ জানিয়েছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। মাদকে পেয়েছি বলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। চিকিৎসক রাসেল যে অভিযোগ জানাচ্ছেন তার কোন সত্যতা নেই।

মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন সিদ্দিকুর রহমান জানান, চিকিৎসক রাসেল আমার জানামতে মাদকের সাথে জড়িত ছিলনা, তার বিরুদ্ধে মাদকের একটি অভিযোগ এসেছে। আমরা এটি অভ্যন্তরীণ ভাবে একটি ব্যবস্থা নিব। গত রবিবার সিভিল সার্জনের মুচলেকা দিয়ে চিকিৎসক রাসেলকে নিয়ে আসা হয়।

সোমবার দুপুরে সাংবাদিক হাসানকে কোর্টে পাঠানো হলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করে।