লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় পদ্মায় বিলীন ২০ বাড়ি

Submitted by Editor on Sat, 07/15/2017 - 17:49
ভাঙ্গন

শাহ্ আলম ইসলাম নিতুল:-মুন্সিগঞ্জের লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পদ্মা নদীতীরবর্তী ২০টি বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। নদীতীরবর্তী শতাধিক বাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কামারখাড়া ইউনিয়নের বড়াইল, চৌসার, বাগবাড়ি ও জুসিষার গ্রামের ১০টি বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। বড়াইল গ্রামের মসজিদের একাংশ গতকাল সন্ধ্যায় ভেঙে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে চার গ্রামের মানুষ বাড়িঘর সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। পদ্মার পানি বেড়ে গ্রামগুলোতে প্রবেশ করেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছে এসব গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

বড়াইল গ্রামের মাসুম মোল্লা জানান, ‘নিজেদের পাঁচটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে নিরাপদ স্থানে এসেছি।’ বড়াইল গ্রামে সাত শতাধিক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে গেছে। বেশ কিছুদিন ধরেই নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। গ্রামে নদীর পানি ঢুকে ধান-ক্ষেতসহ ফসলের জমি তলিয়ে গেছে। নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় বিপাকে পড়েছে গ্রামের মানুষ।
টঙ্গিবাড়ী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহিদুল হক বলেন, ‘সকালে কামারখাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোর বর্তমান অবস্থা জেনেছি। মসজিদসহ ১০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার লৌহজংয়ের পদ্মাতীরবর্তী গাওদিয়া গ্রামের ১০টি ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। নদীতীরবর্তী গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গাওদিয়া গ্রামের আসাদ হোসেন জানান, তাঁদের গ্রামে সাড়ে তিন হাজার মানুষ বসবাস করে। পদ্মার পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। এ ছাড়া ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করেছে। ভাঙন আতঙ্কে গ্রামের মানুষ অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছে।
লৌহজংয়ের ইউএনও মনির হোসেন জানান, জেলা প্রশাসক এরই মধ্যে উপজেলার নদীতীরবর্তী গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে যায়। বিপৎসীমার নিচে পানি থাকলেও পদ্মা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় গ্রামগুলোতে পানি ঢুকে গেছে।

bigapon